Thursday, February 28, 2019

মহা শক্তি মা কালী গ্রন্থের ভূমিকা


যুগে যুগে বিভিন্ন সাধক ও তান্ত্রিক শক্তি  সাধনা সম্পর্কে অনেক মূল্যবান গ্রন্থ আমাদের জন্য রচনা করে গেছেন। বর্তমানে সেইসব গ্রন্থ বেশ দুর্লভ। ফলে কেউ ইচ্ছে করলেও সেসব গ্রন্থ সংগ্রহ করে অধ্যয়ন করতে পারেন না। পবিত্র এসব তন্ত্রশাস্ত্র এবং শক্তি সাধকদের রচিত মহামূল্যবান তন্ত্রোক্ত গ্রন্থসমূহ নানা কারনেই সাধারণ মানুষ পড়তে ভয় পান। প্রকৃত অর্থে মহাশক্তি মা কালীকে জানতে চাওয়ায় কোনো ভয় থাকতে নেই। যেকোনো সাধারণ ব্যক্তিও মাতৃসাধনা অনুশীলন করে মায়ের অনুগ্রহ লাভে সক্ষম হতে পারেন।
জগজ্জননী মা কালী সংঘটিত বহু অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী আমি নিজেই। সেসব ক্ষেত্রে অতীত ও বর্তমান বিভিন্ন বাস্তবতা থেকে প্রেরণা পেয়েই মা কালী সম্পর্কিত এই গ্রন্থটি রচনা করার জন্য আমি সচেষ্ট হয়েছি।
মহাশক্তি মা কালীর স্বরূপ বর্ননা করার ক্ষমতা যেখানে কোনো শাস্ত্রেরই নেই, সেখানে আমার মত একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে মায়ের স্বরূপ বর্ননা দুঃসাধ্য বটে। এক্ষেত্রে সাধক কবি রামপ্রসাদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা  যেতে পারে। তিনি তার এক লেখায় বলেছিলেন "মা'র ত্রিলোচন না পেলে তত্ত্ব, আমি তার অন্ত পাবো বা কি?"
মায়ের অনুগ্রহ বা তার কৃপা পেলেই তাকে জানা যায়, বোঝা যা, অন্য কোনোভাবেই তা মোটেই সম্ভবপর হয় না।
এই বোধটুকু নিজের মধ্যে ধারণ করেই আমি এই গ্রন্থে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা, আবির্ভাব সূত্র, শ্লোক, সাধক জীবনী, শাস্ত্রীয় গ্রন্থ বিশ্লেষণ ও নিদর্শন অনুসরণ করে কৃপাময়ী জগজ্জননীকে সাধারণ পাঠকের কাছে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি মাত্র।
সর্বসিদ্ধিপ্রদায়িনী কৃপাময়ী মহাশক্তি শ্রী শ্রী মা কালীর চরণকমলে আশ্রয় নিলে আধ্যাত্মিক জীবন থেকে শুরু করে বৈষয়িক সুখ এবং ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ, মুক্তি ও ভুক্তি সবই সম্ভব।         
শ্রী শ্রী মায়ের কৃপা পেলে সামান্য একজন ব্যক্তিও ধন্য হতে পারেন, মুক্ত হতে পারেন সকল ধরনের বাধা বন্ধন ও বিপত্তি থেকে। তাই সেই কৃপাময়ী মায়ের সাধনাই হোক আমাদের জীবনের একমাত্র চরম লক্ষ্য।

লেখকের নিবেদন
সবুজ সরকার অমিয়